বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে দেশে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের রাজনীতি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি বলেন, জামায়াত প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না; বরং ন্যায় ও ইনসাফের মাধ্যমে দেশ পরিচালনাই তাদের লক্ষ্য। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০১৫ সালে সাতক্ষীরা সফরের সময় তিনি এই জেলার মানুষের সীমাহীন দুঃখ-কষ্ট ও নির্যাতনের চিত্র প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, সে সময় শহীদ পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়াতে, নির্যাতিত মা-বোনদের সম্মান জানাতে এবং পিতৃহারা শিশুদের সান্ত্বনা দিতে সাতক্ষীরায় এসেছিলেন। তিনি দাবি করেন, দেশের অন্য কোনো জেলায় সাতক্ষীরার মতো পরিকল্পিতভাবে জুলুম ও অবিচার চালানো হয়নি।
তিনি অভিযোগ করেন, ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই সাতক্ষীরাকে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এবং জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাঙাসহ নানা ধরনের দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। জামায়াত আমির বলেন, তার দল দেশের সবচেয়ে নির্যাতিত রাজনৈতিক শক্তি। বহু নেতাকর্মী হত্যা, গুম ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন; দলীয় নিবন্ধন ও প্রতীক বাতিল এবং দল নিষিদ্ধের ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসব নিপীড়নের পরও জামায়াত শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনীতির পথেই রয়েছে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মুক্তির পরও জামায়াত নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের সহিংসতা বা চাঁদাবাজিতে জড়াতে নিষেধ করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে জনগণের জানমাল রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। এছাড়া জেলার চারটি সংসদীয় আসনের জামায়াত প্রার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।


