সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে তার। সে লক্ষ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে মঞ্চ। প্রায় ২১ বছর পর সিলেটে এসেছেন তারেক রহমান। তার এই আগমনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সিলেটের জনসভা শেষ করে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন। ফেরার সময় তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় আয়োজিত পৃথক দুটি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। পথে কিশোরগঞ্জের ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে সভা করার কথা রয়েছে বলেও দলীয় নেতারা বলছেন। এরইমধ্যে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। রাত থেকেই নেতাকর্মীরা জড়ো হয়েছেন মাঠে।
এর আগে, গতকাল বুধবার রাত ৮টায় বিএনপি চেয়ারম্যান বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে সিলেট পৌঁছান। সিলেট সফরে তারেক রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ছাড়াও বিএনপির প্রতিনিধি দলে রয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, তারেক রহমানের একান্ত সচিব আব্দুস সাত্তার, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা একেএম শামসুল আলম, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন এবং মহাসচিবের ব্যক্তিগত সহযোগী ইউনূস আলী।
রাত ৯টা ৫ মিনিটে তারেক রহমান হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে সেখানে নফল নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে রাত ৯টা ৩০ মিনিটে তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি মরহুম জেনারেল (অব.) এম এ জি ওসমানীর কবর জিয়ারত করেন। পরে হযরত শাহপরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন তিনি। এরপর রাত ১টায় যান শ্বশুরবাড়ি দক্ষিণ সুরমার সিলামে বিরাইমপুরে। সেখানে তিনি আতিথেয়েতা গ্রহণ করেন। এসময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
এসময় তারেক রহমান স্থানীয় মুরুব্বি ও এলাকাবাসীর দোয়া কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনের লক্ষ্যে রাজনীতি করি। ধানের শীষ জয়যুক্ত হলে আমরা আমাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাধারণ মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষক কার্ড প্রবর্তন করব।‘
সিলেটের বহু মানুষ প্রবাসে থাকেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা প্রতিটি জেলায় উন্নত ট্রেনিং সেন্টারের ব্যবস্থা করব যাতে আমাদের যুবকরা দক্ষ হয়ে বিদেশে যেতে পারে। তারা দক্ষ হিসেবে ভালো বেতনে চাকরি করলে, দেশে বেশি রেমিট্যান্স আসবে, দেশের অর্থনীতির বিকাশ হবে। এছাড়া কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সূচিত ঐতিহাসিক ‘খাল খনন’ কর্মসূচি পুনরায় চালু করার ঘোষণা দেন তিনি।
ভোটাধিকার হরণের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘গত ১৬ বছর এ দেশে মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছিল। মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছিল। আমরা সেই অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই। মানুষের হাতে ক্ষমতার চাবিকাঠি ফিরিয়ে দিতেই এই নির্বাচন।‘


