অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে অংশ নেন নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।
বৈঠকে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টারাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ও সড়ক, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা জানান, দলটি ইতোমধ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছে এবং আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে পূর্ণোদ্যমে নির্বাচনী প্রচারণায় নামবে। ওই দিন থেকে একযোগে নির্বাচন ও গণভোটের প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
নির্বাচন সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জামায়াত নেতারা প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই একটি ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন নিয়ে কোনো জরুরি তথ্য, অভিযোগ বা মতামত পাওয়া মাত্রই তা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে এবং প্রয়োজন হলে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
তিনি জানান, ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে অধিকাংশ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য বডি ক্যামেরার ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া নির্বাচন উপলক্ষে একটি হটলাইন চালু করা হবে, যেখানে অভিযোগ গ্রহণ করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সব রাজনৈতিক দলকে একযোগে কাজ করতে হবে।


