ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাই সংক্রান্ত আপিল শুনানিতে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে উত্তেজনা ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে মানিকগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানমের দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত মনোনয়নপত্র বৈধতা যাচাই সংক্রান্ত আপিলের সময়।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া শুনানির সময়, কমিটির পক্ষ থেকে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ব্যাখ্যা চাইলে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। শোনা শেষে কমিশন শুনানিতে অর্ধঘণ্টার বিরতি দেয়। এ বিরতির সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বে কমিশন কক্ষে থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর মঞ্চের সামনে আপিলের পক্ষ এবং বিপক্ষের আইনজীবীরা একত্রিত হন। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফেনী-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টু ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপর কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ এই উত্তেজনা নিয়ে আপত্তি তুলেন, যা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তোলে। আইনজীবীরা অবশেষে আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে সরিয়ে দেন। তার ছেলে তাবিথ আউয়াল হাসনাত আব্দুল্লাহকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিরতির পর শুনানি পুনরায় শুরু হলে হাসনাত আব্দুল্লাহ কমিশনের কাছে অভিযোগ করেন যে, আব্দুল আউয়াল মিন্টু অশ্লীল ভাষা ব্যবহার ও বল প্রয়োগের চেষ্টা করেছেন। এ সময় অপর এক আইনজীবী আরও অভিযোগ করেন যে, কিশোরগঞ্জের একটি আসনের বিএনপির সমর্থকরা শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) তার ক্লায়েন্টকে মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, এই ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং তা নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর। তিনি বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত যে কোনো হঠাৎ উত্তেজনার ঘটনা তদন্ত কমিটির কাছে জানানো হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ প্রতিরোধ করা হবে।


