বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিতের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্তের পেছনে একাধিক কারণ উল্লেখ করেছে। সিদ্ধান্তটি সদ্য জানানো হয়েছে বিধায় সরকার তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টারা সমন্বিতভাবে একটি কর্মকৌশল নির্ধারণ করবেন এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা হবে।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রিজওয়ানা হাসান বলেন, সিদ্ধান্তটি খুব সম্প্রতি এসেছে। তাই আনুষ্ঠানিক আলোচনা এখনো শুরু না হলেও বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় নেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করা এবং ভিসা প্রক্রিয়ায় যেন নাগরিকরা অযথা ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া।
ভিসা বন্ডিং ইস্যুর পর আবার অভিবাসী ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি কোনো একটি দেশকে আলাদা করে টার্গেট করার সিদ্ধান্ত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে যেসব দেশ থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি অভিবাসী যায়, রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়া হয় অথবা সামাজিক সেবার ওপর নির্ভরশীলতার হার বেশি, সেসব দেশের ক্ষেত্রেই এই ধরনের শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিজস্ব নীতিগত সিদ্ধান্ত। তবে এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য কী ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে এবং কীভাবে তা মোকাবিলা করা যায়—সেসব বিষয় সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। প্রয়োজন হলে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির বাস্তবসম্মত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকার মনে করে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সংলাপই উত্তম পথ। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।


