জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দায়মুক্তি আইন’ অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। এর মাধ্যমে জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মামলাগুলো প্রত্যাহারের পথ খুলে গেল, পাশাপাশি ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো মামলা দায়েরের সুযোগও থাকছে না।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ আন্দোলন। সে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের হয়রানি বা বিচারিক প্রক্রিয়ায় জড়ানো ন্যায়সংগত নয়। তাই তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই আইন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আইন উপদেষ্টা আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো পদক্ষেপ নিতে চায় না। গণভোট ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান প্রত্যাশা ছিল কাঠামোগত সংস্কার। সরকার কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়, বরং সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গণভোটে জনগণ চাইলে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—উভয় মতই স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারবে। জনগণ যদি পুরোনো ব্যবস্থাই বজায় রাখতে চায়, সেটিও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ব্রিফিংয়ে ক্রীড়াঙ্গনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন আসিফ নজরুল। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিষয়ে সরকারের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার অবস্থান থেকে সরে আসবে না। দেশের দলের ম্যাচগুলো যদি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়, তবেই বাংলাদেশ অংশ নিতে আগ্রহী থাকবে।
সব মিলিয়ে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদনের মাধ্যমে সরকার একদিকে আন্দোলনে অংশ নেওয়া নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে, অন্যদিকে সংস্কার ও জাতীয় স্বার্থে নিজের নীতিগত অবস্থানও স্পষ্ট করেছে।


