জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনের বিরুদ্ধে অব্যাহতির সুপারিশ করার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলাটি তদন্তে ভুয়া ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) পিবিআইয়ের গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীদের দেওয়া নাম-ঠিকানাসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করে সম্পূর্ণ ভুয়া পাওয়া গেছে। অভিযোগে উল্লিখিত সময় ও স্থানে কোনো হামলার ঘটনাও ঘটেনি বলে তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পাশাপাশি মামলার বাদী শরিফ (৩৭) তদন্তে সহযোগিতা করেননি এবং বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কোনো ভুক্তভোগী হাজির করতে ব্যর্থ হন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা ওই মামলায় বাদী নিজেকে সাহেদ আলী নামে এক ব্যক্তির ভাই দাবি করলেও তদন্তে তার সত্যতা মেলেনি। এজাহারে উল্লেখিত ভিকটিম সাহেদ আলীর জাতীয় পরিচয়পত্র ভুয়া এবং উল্লিখিত ঠিকানায় এমন কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার কথিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্যও যাচাই করে সত্যতা পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থল হিসেবে উল্লেখ করা ধানমন্ডি ২৭ এলাকার আশপাশে ওই সময়ে কোনো সহিংস ঘটনার প্রমাণও মেলেনি বলে জানিয়েছে পিবিআই। সার্বিক তদন্তে অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি না থাকায় মামলাটিকে মিথ্যা হিসেবে চিহ্নিত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
পিবিআই জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত সব মামলা পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রমাণ পাওয়া একাধিক মামলায় আদালতে চার্জশিট ও প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আলোচিত মামলাটিতে ৫ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় এবং আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।


