কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল উৎপাদন ইউনিট ও বয়লার অংশ সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরে অবস্থিত স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। প্রথমে মহেশখালী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে অতিরিক্ত ইউনিট পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ভোর ৫টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত ছিল। আগুনের মূল কেন্দ্র অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এলেও পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হয়নি। স্ক্র্যাপের স্তূপে আগুন বারবার নতুন করে জ্বলে ওঠায় নির্বাপণ কার্যক্রমে বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার জানান, আগুনে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটেনি এবং মূল স্থাপনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
মহেশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন কাদের জানান, আগুনের তীব্রতা কমে এসেছে। বর্তমানে ডাম্পিং কার্যক্রমের মাধ্যমে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের ইনস্পেক্টর দিদারুল হক জানান, অভিযান শেষ করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি মূল বয়লার এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থিত এবং পুকুর সদৃশ কাঠামোর মধ্যে নির্মিত। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ ও তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


