Wednesday, April 29, 2026
Home জাতীয় শ্রমিক ইশতেহার প্রকাশ : ১৫ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার দাবি

শ্রমিক ইশতেহার প্রকাশ : ১৫ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার দাবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শ্রমিক ইশতেহার প্রকাশ করেছে ‘শ্রমিক অধিকার জাতীয় অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্স’। ইশতেহারে শ্রমিক অধিকার সংক্রান্ত ১৫ দফা সুপারিশ তুলে ধরে তা সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করার এবং আগামীতে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে শ্রম ইস্যুর অন্তর্ভুক্তি এবং জাতীয়ভাবে শ্রম বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘শ্রমিক অধিকার জাতীয় এডভোকেসি এলায়েন্স’-এর উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে উত্থাপিত ‘শ্রমিক ইশতেহার’ তুলে ধরা হয়।

শ্রমিক অধিকারের বিষয়টি জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে শ্রমিক অধিকার জাতীয় এডভোকেসি এলায়েন্স এর নেতারা বলেছেন, শ্রমিকের রক্তের বিনিময়ে যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসেন, তারা যেন শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণের বিষয়টি ভুলে না যান।

শ্রমিকদের অবদানের কথা ভুলে না গিয়ে শ্রমিক অধিকারের বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোকে অগ্রাধিকার তালিকায় রাখতে হবে।’ জাতীয় ন্যূনতম মজুরি, সব ক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্য বিলোপ এবং সব শ্রমিকের জন্য সামাজিক সুরক্ষার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ও বিলস মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, এই ‘ইশতেহার নিয়ে মাঠ পর্যায়ে শ্রমিকদের কাছে যাওয়ার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ, লবি ও অ্যাডভোকেসি অব্যাহত রাখা হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে হস্তান্তরের পাশাপাশি জাতির সামনে উত্থাপন করা হবে, যাতে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও কল্যাণ ইস্যুতে জাতীয় বোঝাপড়া ও উপলব্ধি গড়ে ওঠে।

সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মদ তার বক্তব্যে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, মজুরি বৈষম্য বিলোপ এবং সকল শ্রমিকের জন্য সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, প্রতিটি আন্দোলনে শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি রক্ত দেন এবং বড় অবদান রাখেন, কিন্তু পরিবর্তনের পর যারা ক্ষমতায় আসেন তারা শ্রমিকদের কথা ভুলে যান। তিনি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান, শ্রমিকদের অবদান স্মরণ রেখে শ্রমিক অধিকারের বিষয়টি যেন অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়কারী আব্দুল কাদের হাওলাদার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, বাংলাদেশ ফ্রি ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের সভাপতি এ আর চৌধুরী রিপন, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার, শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব সেকেন্দার আলী মিনা এবং নারীপক্ষের সদস্য রওশন আরা। এ সময় এলায়েন্সভুক্ত ট্রেড ইউনিয়ন ও নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে আশা প্রকাশ করা হয়, শ্রমিক ইশতেহারের সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে, যেখানে শান্তিপূর্ণ শিল্পসম্পর্ক, নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সবার অংশগ্রহণ ও ন্যায্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। নীতিগতভাবে এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে আগামীর বাংলাদেশ একটি বৈষম্যহীন, মর্যাদাকর, টেকসই ও সুষম উন্নয়নের দেশে রূপ নেবে এবং বিশ্বপরিসরে ‘প্রতিযোগী বাংলাদেশ’ হিসেবে অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়তে শ্রমিক ইস্যুকে একটি প্রধান নীতিনির্ধারণী বিষয় হিসেবে বিবেচনায় নিতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের ভোটের সংখ্যাকে উপেক্ষা করে জাতীয় পর্যায়ে কোনো পরিকল্পনা বা এজেন্ডা বাস্তবায়ন না করার বিষয়ে সর্বজনীন রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রত্যাশা করা হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ সামনে রেখে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও প্রত্যাশাকে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সুপারিশ আকারে তুলে ধরতে জাতীয় ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনসমূহ, শ্রমিক অধিকার সংগঠন, বিভিন্ন জোট এবং নাগরিক সমাজের সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘শ্রমিক অধিকার জাতীয় এডভোকেসি এলায়েন্স’ গঠন করা হয়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Recent Comments