বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এবং হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের পক্ষ থেকে সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুসংবাদ জানানো হয়। এরপরই নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে শোক কর্মসূচির ঘোষণা দেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী সাত দিন বিএনপির সব কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। পাশাপাশি দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন। শোক প্রকাশের অংশ হিসেবে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, গুলশানের চেয়ারপারসনের কার্যালয়সহ সারাদেশের সব দলীয় কার্যালয়ে শোক বই খোলা থাকবে। এতে দেশ-বিদেশের শুভানুধ্যায়ী ও নেতাকর্মীরা প্রয়াত নেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন।
কর্মসূচি ঘোষণার আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, এটি প্রাথমিক শোক কর্মসূচি। পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তীতে আরও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী নন, তিনি দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক ছিলেন।
এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনের সময়সূচি এবং স্থান সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


