বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক যুগের অবসান ঘটিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিতান্তই একজন গৃহবধূ হিসেবে জীবন শুরু করা খালেদা জিয়া কখনো ভাবেননি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসবেন। ১৯৮১ সালে স্বামী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর হঠাৎ করেই দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা তাঁকে সামনে নিয়ে আসে। সেই সময় থেকেই তিনি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রধান নেতৃত্ব।
১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগদানের পর অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দলের ভাইস-চেয়ারম্যান ও পরে চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ‘আপোষহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। একাধিকবার কারাবরণ করেও তিনি আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াননি।
১৯৯১ সালে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তাঁর শাসনামলে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থনীতি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে তাঁর সরকারের নানা উদ্যোগ দেশকে এগিয়ে নেয়। তৈরি পোশাকশিল্পে নারীদের অংশগ্রহণ ব্যাপকভাবে বাড়ে, যা নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পরবর্তী সময়ে তিনি আরও দুই দফা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং দীর্ঘ সময় দেশের প্রধান বিরোধী শক্তির নেতৃত্ব দেন। আন্তর্জাতিক পরিসরেও তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। নারী নেতৃত্বে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ফোর্বস ম্যাগাজিন তাঁকে বিশ্বের প্রভাবশালী নারীদের তালিকায় স্থান দেয়।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশ এক প্রভাবশালী ও সংগ্রামী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারাল। তাঁর জীবন ও কর্ম দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


