Saturday, May 30, 2026
Home জাতীয় নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে, আমিও জনগণের সঙ্গে থাকব: তারেক রহমান

নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে, আমিও জনগণের সঙ্গে থাকব: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন কেবল ‘এক্সপেরিমেন্ট আর এক্সপেরিয়েন্স’ অর্জনের নির্বাচন নয়। অতীতের চেয়ে এবারের নির্বাচন জটিল এবং গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্ন-সাধ-আশা-আকাঙ্ক্ষা-স্বার্থ এবং সম্ভাবনা। আছে বাংলাদেশের স্বার্থ এবং সার্বভৌমত্ব সুসংহত রাখার প্রশ্ন। তিনি বলেন, ‘‘আশা করি নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে। ভোটের মাঠে জনগণের সঙ্গে থাকবো।’’

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হন তিনি।

‘‘আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রামে-গঞ্জে শহরে-নগরে, পাড়া-মহল্লায়, অলিতে-গলিতে ও রাজপথে জনগণের নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই নির্বাচনি মিছিলে আমিও আপনাদের সঙ্গে থাকবো, ইনশাআল্লাহ।’’

তিনি বলেন, ‘‘আগামী দশকটি হবে রূপান্তরের দশক। এই চিন্তা নিয়েই আমরা আমাদের দেশ গড়ার কর্মসূচি বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছি।’’

দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, চার কোটির বেশি তরুণ, কোটি কোটি কৃষক-শ্রমিক, কর্মক্ষম এই জনসংখ্যাকে কাজে লাগিয়ে, বাংলাদেশের বিজয়কে সুসংহত করাই বিএনপির লক্ষ্য। একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার মাধ্যমেই আমার আমাদের আগামীর প্রতিটি বিজয় দিবসকে আরও গৌরবান্বিত এবং আরও অর্থবহ করে তুলতে চাই।’’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল দিন আমাদের মহান বিজয় দিবস। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, কখনোই এই দিবসের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য মলিন হবে না।’’

‘‘তবে একটি বিষয় আমাদের সবার স্মরণে রাখা দরকার, সতর্ক থাকা দরকার— সেটি হলো মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে দেশি-বিদেশি অপশক্তি অতীতের মতো এখনও সক্রিয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীদের রঙ-রূপ-চেহারা হয়তো পাল্টেছে, চরিত্র কিন্তু পাল্টায়নি।’’

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ হঠাৎ করেই সাগরের বুকে ভেসে ওঠা কোনও ভূখণ্ড নয়। লাখো শহীদের আত্মত্যাগ আর অসংখ্য মা-বোনের সম্মান-সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাংলাদেশ নামক এই ভূখণ্ডটির স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের সেই গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে অসংখ্য গল্প, বই ও কবিতা রচিত হয়েছে।’’

‘‘অনেকেই হয়তো জানেন, স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর ঘটনাবলি নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নিজের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক একটি নিবন্ধ রয়েছে। এই নিবন্ধটি আমাদের  স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক অনন্য দলিল।’’

তিনি অভিযোগ করেন, পতিত পলাতক একটি চক্র স্রেফ নিজেদের হীন দলীয় স্বার্থে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়েছে।

স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে দলীয় ইতিহাসে পরিণত করার অপরিণামদর্শী অপচেষ্টার কারণেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এখন মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত একটি চক্র বিজয়ের নতুন ইতিহাস রচনার অপচেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, ‘‘পরাজিত চক্রকে মোকাবিলায় প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার পরিবর্তে বিজয়ের সুফল প্রতিটি মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্বনির্ভর সমৃদ্ধ একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই হোক—এবারের বিজয় দিবসের অঙ্গীকার।’’

‘‘বিএনপি মনে করে, যতদিন পর্যন্ত এই রাষ্ট্রে জনগণের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা যাবে না, ততদিন পর্যন্ত স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্র টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে না।’’

তিনি মনে করেন, জনগণকে ক্ষমতাবান করার পূর্ব শর্তই হচ্ছে জনগণের সরাসরি ভোটে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ জনগণের কাছে জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিষ্ঠা। এ কারণেই বিএনপি সবসময় রাষ্ট্র এবং সরকারে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতেই যেকোনও মূল্যে দেশে অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।

তিন আরও বলেন, ‘‘দেশের জনগণ সাক্ষী, অকারণ শর্তের পর শর্ত জুড়ে দিয়ে কিংবা নানা অজুহাতে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী একাধিক চক্র নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে বারবার নানা রকম বিঘ্ন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছিল।’’

‘‘তবে সব বাধা উপেক্ষা করে প্রায় দেড় দশকের বেশি সময় পর নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত জনগণের কাঙ্ক্ষিত সেই  জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণা করেছে।’’

‘‘তবে ষড়যন্ত্রকারীরা কিন্তু এখনও থেমে নেই। গণতন্ত্রের পক্ষের সাহসী সন্তান ওসমান হাদিকে গুলি করা সেই ষড়যন্ত্রেরই অংশ।’’

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘‘কী ছিল ওসমান হাদির অপরাধ? আমি মনে করি, কয়েকটি প্রশ্নের জবাবের মধ্যেই গণতন্ত্রকামী জনগণের সামনে ঘাতকদের চরিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠবে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করা গেলে কারা খুশি হবে?  নির্বাচন ছাড়াই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে বহাল রাখা গেলে কারা লাভবান হবে? দেশে জনগণের ভোটে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত না হলে কাদের লাভ? আমি বিশ্বাস করি, এসব প্রশ্নের জবাবের মধ্যেই হাদির ঘাতকরা লুকিয়ে রয়েছে।’’

তারেক রহমান বলেন, ‘‘মহান বিজয়ের সুফল প্রতিটি নাগরিকের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি আবারও জনগণের সহযোগিতা, সমর্থন এবং সুযোগ প্রত্যাশা করছে।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

দুস্থ মানুষের পাশে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীতে ব্যাপক পরিসরে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির...

আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ইস্যুতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা ৩ জুন

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। এ কারণে তদন্তের সময়সীমা আরও তিন দিন বাড়ানো...

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আজ ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী

সাবেক রাষ্ট্রপতি, স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার জিয়াউর রহমানের আজ ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ১৯৮১ সালের ৩০ মে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য তাকে...

বর্জ্য অপসারণে গাফিলতি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই সিটির ২ কর্মকর্তা বরখাস্ত

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি পাওয়ায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের...

Recent Comments