নিজস্ব প্রতিবেদক: পূর্ব আফ্রিকার বাজারে বাংলাদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় নতুন সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে কেনিয়ায় অবস্থিত স্কয়ারের সাবসিডিয়ারি প্রথমবারের মতো টেকসই পরিচালন মুনাফা অর্জন করেছে, যা বিদেশে কোম্পানিটির বিনিয়োগ কৌশলের একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
৩০ জুন ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী, কেনিয়ার ইউনিটটি ১০ কোটি ২০ লাখ টাকা পরিচালন মুনাফা এবং ১০ কোটি ২১ লাখ টাকা কর-পরবর্তী নীট মুনাফা অর্জন করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি ছিল সাবসিডিয়ারিটির মূল ব্যবসা কার্যক্রম থেকে অর্জিত প্রথম স্থায়ী মুনাফা। আগের অর্থবছরে সীমিত পরিসরে যে মুনাফা দেখা গিয়েছিল, তা মূলত বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের পরিবর্তনের ফল, যেখানে পরিচালন পর্যায়ে লোকসানই ছিল প্রধান চিত্র।
কোম্পানির বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উল্লেখযোগ্য রাজস্ব প্রবৃদ্ধি এই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রধান চালিকাশক্তি। স্থানীয় মুদ্রায় বছরে প্রায় ১৭২ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে রাজস্ব ২৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ৭৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বাজারে দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা, উৎপাদন সক্ষমতার উন্নত ব্যবহার এবং কঠোর ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মোট মার্জিন ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছায়, যা কারখানাটিকে অপারেশনাল ব্রেকইভেন অতিক্রমে সহায়তা করে।
২০২৫ অর্থবছরে আরেকটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলো—কেনিয়া প্ল্যান্ট থেকে প্রথমবারের মতো রপ্তানি কার্যক্রম শুরু। যদিও প্রাথমিক রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৫ লাখ টাকা, তবে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এটিকে বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে প্রবেশের সূচনা হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে পূর্ব আফ্রিকান কমিউনিটির (ইএসি) বাজারকে লক্ষ্য করে ভবিষ্যতে আন্তঃদেশীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস কেনিয়া ইপিজেড লিমিটেড মাচাকোস কাউন্টির আথি রিভারে অবস্থিত আধুনিক উৎপাদন কেন্দ্র থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দ্রুত বর্ধনশীল কেনিয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল বাজারে এই সাফল্য স্কয়ারের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ কৌশলকে আরও শক্ত ভিত্তি দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


