মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সব সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেন।
রায়ের পর দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির দেশ–বিদেশের সম্পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর বিএফআইইউ-এর প্রতিবেদনে জানা যায়, হাসিনা ও তার পরিবারের পাশাপাশি দেশের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মোট ৫৭ হাজার ২৫৭ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়। এর মধ্যে দেশে জব্দ হয়েছে ৪৬ হাজার ৮০৫ কোটি এবং বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ১০ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা।
বিএফআইইউ, দুদক, সিআইডি ও এনবিআর সমন্বিত তদন্ত দল গঠন করে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং ও কেম্যান আইল্যান্ডসে শেখ হাসিনা পরিবারের সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। ১২৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৬৩৫ কোটি টাকা, রাজউকের ৬০ কাঠার একটি প্লট, একাধিক ফ্ল্যাট ও জমির তথ্যও বেরিয়েছে।
তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে দাখিল করা হলফনামায় শেখ হাসিনা তার সম্পদ হিসেবে দেখিয়েছিলেন মাত্র চার কোটি ৩৬ লাখ টাকা। কৃষি ও সিকিউরিটিজ আয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখানো হয়েছিল।
অপরদিকে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের বিরুদ্ধেও শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও তিন শতাধিক কোটি টাকার মানি লন্ডারিংয়ের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। সরকারি প্রভাব খাটিয়ে দেশে–বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আরও তদন্ত চলছে।


