সরকারি স্কুলে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়ায় এবারও লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। তবে লটারি প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তাপূর্ণ হওয়ায় ভালো স্কুল পাওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এছাড়া ভর্তি নীতিমালায় ৬৩ শতাংশ কোটা বহাল থাকায় বিভিন্ন কোটা নিয়ে আপত্তি তুলছেন অভিভাবকরা।
নীতিমালায় দেখা যায়, মোট শূন্য আসনের ৪০ শতাংশ ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা। অর্থাৎ বিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী শিক্ষার্থীরা এতে অগ্রাধিকার পাবেন। কিন্তু অস্থায়ীভাবে ঢাকায় বসবাসকারী অনেক অভিভাবক এ কোটা বাতিলের দাবি তুলছেন। তাদের অভিযোগ, ক্যাচমেন্ট প্রমাণের জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র নিতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
মালিবাগে বসবাসকারী অভিভাবক ফাহমিদুল হক বলেন, “অনেকে অনলাইনে ভুল তথ্য দিয়ে ক্যাচমেন্ট এরিয়া দেখায়। পরে লটারিতে টিকলে টাকা দিয়ে প্রত্যয়নপত্র যোগাড় করে। এটা সরাসরি জালিয়াতি।”
ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ১০% আসন বাধ্যতামূলকভাবে সংরক্ষিত থাকবে।
নীতিমালার বাইরে বদলি হয়ে অন্য এলাকায় যোগ দেওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য প্রায় ৫ শতাংশ ‘অলিখিত কোটা’ থাকে। সরকারি হাইস্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীদের সন্তানরাও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সুবিধা পান।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক কর্মকর্তা জানান, কিছু কোটার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ক্যাচমেন্ট নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণসহ পাওয়া গেছে, যা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।
মাউশির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) বি এম আব্দুল হান্নান বলেন, “মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লটারিতেই ভর্তি হবে। আপত্তি উঠলে ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে পরিবর্তন আনা যেতে পারে।”


