লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরের মেঘনা নদীতে আজ শুক্রবার (৩ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের জন্য সব ধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মা ইলিশ ও জাটকা মাছ সংরক্ষণ করা। জেলেদের জীবনমান বজায় রাখতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলেকে ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেওয়া হবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তুর্য সাহা এবং রামগতি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সৌরভ-উজ জামান জানান, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য মৎস্য বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ এবং কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে। নদীতে অভিযান চলাকালে সঠিক তালিকা তৈরি করে বরাদ্দকৃত চাল জেলেদের মধ্যে দ্রুত বিতরণ করা হবে।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, কমলনগরে ১৪,৯৮ জন এবং রামগতিতে ২০,৩৬০ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। ফলে এই দুই উপজেলার মোট ৩৪,৪৫৮ জন জেলে বর্তমানে সম্পূর্ণ বেকার অবস্থায় পড়েছেন।
নিষেধাজ্ঞা এলাকাটি রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার বিস্তৃত। এই সময়সীমা ৩ অক্টোবর রাত ১২টা থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত থাকবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ১০০ কিলোমিটার এলাকার মেঘনা নদীকে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেই কারণে এই অঞ্চলে ইলিশ মাছ আহরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুতকরণ সব ধরনের কার্যক্রম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
মৎস্য কর্মকর্তা তুর্য সাহা বলেন, “নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে যারা এই আদেশ অমান্য করে নদীতে মাছ ধরবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা চাই জেলেরা সচেতনভাবে এই নিয়ম মানুক, যাতে মা ইলিশ এবং জাটকা সংরক্ষণে আমাদের প্রচেষ্টা সাফল্যমণ্ডিত হয়।” মৎস্য অধিদফতরের এই পদক্ষেপ ইলিশের প্রজনন সময় রক্ষা ও নদীর সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রকে সুস্থ রাখার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


