মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান জাজিরা (এম) এনডিএস বিএইচডি-এর সেলসম্যান মো. সোহাগের বিরুদ্ধে প্রায় ২ কোটি ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সোহাগের বাড়ি ঢাকার কেরানীগঞ্জের কালিন্দি এলাকায়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন কোম্পানির মালিক আজমের ভাতিজা মো. আজিজুল। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, আত্মসাতের অর্থ ফেরত আদায় ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)-এর জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
আজিজুলের দাবি, আত্মসাৎ করা টাকার একটি বড় অংশ সোহাগ দেশে পাঠান তার পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। এর মধ্যে তার মায়ের **ডাচ্ বাংলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৯৬ লাখ টাকা** এবং বোনের অ্যাকাউন্টে আরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মালয়েশিয়ায় ইতোমধ্যে গত সেপ্টেম্বরে সোহাগের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। এছাড়া কেরানীগঞ্জে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এক শালিসি বৈঠকে সোহাগের মা জয়নব বেগম বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি ব্যাংকের মাধ্যমে ২২ লাখ টাকা এবং নগদ ১০ লাখ টাকাফেরত দেন। তবে বাকি অর্থ ফেরত দেননি।
অভিযোগ করা হয়, বাকি টাকা ফেরতের জন্য চাপ সৃষ্টি হলে সোহাগ নতুন কৌশল নেয়। তিনি মালিক ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অপহরণের মিথ্যা অভিযোগ এনে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে তদন্ত প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে এবং প্রকৃত ভুক্তভোগীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আজিজুল ছাড়াও কোম্পানির মালিক আজমের পরিবারের সদস্য ফয়সাল হাওলাদার, আব্দুল লতিফ, জাহাঙ্গীর হোসেন ও আজিজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, একদিকে কোটি টাকা আত্মসাৎ, অন্যদিকে মিথ্যা অপহরণ মামলা—দুটি বিষয় মিলিয়ে এখন তারা দারুণ চাপে আছেন। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরতের দাবি জানান।


