ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, প্রশাসনে বর্তমানে তিন ধরনের শক্তি সক্রিয় রয়েছে—একদলীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী, প্রতিস্থাপিত দলীয় গোষ্ঠী এবং নিরপেক্ষ থাকতে চাওয়া একটি ছোট পেশাজীবী গোষ্ঠী। তার মতে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এই টানাপোড়েনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবি কার্যালয়ে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) আয়োজিত নির্বাচনি সংবাদ প্রতিবেদন-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রশাসনে হঠাৎ করে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। ধীরে ধীরে সংস্কার, স্থিতিশীলতা ও পেশাদারি গড়ে তুলতে হবে। বিভিন্ন কমিশনের দেওয়া সংস্কার সুপারিশ এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গণমাধ্যমের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার সুরক্ষিত রাখতে হবে। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক নীতিমালা সাংবাদিকদের জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিশেষ করে ভোটকক্ষে প্রবেশের আগে প্রিসাইডিং অফিসারকে ‘অবহিত করার’ শর্তটি হয়রানির হাতিয়ার হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের আইন ও নীতিমালার ভেতরে থেকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে। কোথায় ভোটারদের অধিকার নিশ্চিত হচ্ছে আর কোথায় ব্যর্থতা ঘটছে—তা প্রকাশ করা সাংবাদিকদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে তাদের নিরপেক্ষতা ও সততার মাধ্যমেই সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সুগম হবে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ছাড়া নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ দিতে হবে।


