রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান (সাবসিডিয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সোনালী এক্সচেঞ্জ কোম্পানি ইনকরপোরেটেড (এসইসিআই)। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে নয়টি শাখা ও বুথ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে সংগৃহীত রেমিট্যান্স দেশে পাঠানোই এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কাজ। তবে অঙ্গপ্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত আইন ভঙ্গ করছে সোনালী ব্যাংক পিএলসি। কয়েক দফায় সতর্ক করার পরও সংশোধন না হওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত বৃহৎ এ ব্যাংককে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আইন ভঙ্গ করে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা না করতে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন ১৯৯১-এর ৩২ ধারা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের লিখিত পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো ব্যাংক দেশের বাইরে নতুন ব্যবসা কেন্দ্র চালু কিংবা বিদ্যমান ব্যবসা কেন্দ্রের স্থান পরিবর্তন করতে পারবে না। কিন্তু আইনের এ ধারা একাধিকবার লঙ্ঘন করেছে সোনালী ব্যাংক।
সোনালী এক্সচেঞ্জ-সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নথিতে বলা হয়, সোনালী ব্যাংকের অঙ্গপ্রতিষ্ঠানটি আইন ভঙ্গ করে একাধিকবার বুথকে শাখায় রূপান্তর করেছে। একই সঙ্গে পূর্বানুমোদন ছাড়াই স্থানান্তর করা হয়েছে সোনালী এক্সচেঞ্জের শাখা। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া চালু করা হয়েছে ‘মোবাইল অ্যাপ’।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইউর্কে অবস্থিত সোনালী এক্সচেঞ্জের জ্যামাইকা বুথকে জ্যামাইকা শাখায় রূপান্তর করা হয়। এ বিষয়ে ২০২১ সালের ২ ডিসেম্বর কার্যোত্তর অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করে সোনালী ব্যাংক। ২০২২ সালের জুলাইয়ের এক চিঠিতে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটানোর নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানানো হয় ওই চিঠিতে। এ সতর্কবার্তার পরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি। বরং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি না নিয়ে একের পর এক শাখা স্থানান্তর ও সেবা চালু করে চলেছে সোনালী এক্সচেঞ্জ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শওকত আলী খান বলেন, ‘ঘটনাটি আমি এমডি পদে দায়িত্ব নেয়ার আগের। তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাখ্যা তলবের পর আমরা জবাব দিয়েছি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো জরিমানা করা স্বাভাবিক ঘটনা। আমরা ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সতর্ক থাকব।’
শওকত আলী খান আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের এক্সচেঞ্জ হাউজটি ভালো করছে। এ বছর রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেশ বেড়েছে। এখন নয়টি শাখা ও বুথ আছে। আমরা আরো তিন-চারটি শাখা খোলার অনুমোদন প্রক্রিয়ায় আছি।’
যুক্তরাষ্ট্রে সোনালী এক্সচেঞ্জ কোম্পানি ইনকরপোরেটেডের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ১৯৯৪ সালের ১২ ডিসেম্বর। তিন দশকের বেশি সময় ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করা এ প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে এখন তিনটি শাখা ও ছয়টি বুথ রয়েছে।


