গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল অডিটোরিয়ামে জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের প্রতিনিধি সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী আমলে হামলা, নির্যাতন উপেক্ষা করেও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভূমিকা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ছিল। পতিত, পরাজিত স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ সামনে এসেছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের টার্গেট নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যে জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা ঘোষণা করেছে। বিএনপি ঘোষিত সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দেশের কর্মসংস্থান ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি আপনাদের সক্রিয় সমর্থন ও সহযোগিতা চায়।
অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৬ বা ৭৭ সালের দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বৃহত্তর ময়মনসিংহের সমতলের বসবাসকারী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার মতবিনিময় অনুষ্ঠান হয়েছিল। সে সময় শহীদ জিয়া বৃহত্তর ময়মনসিংহ এলাকায় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এবং তাদের সংস্কৃতি চর্চার বিকাশের লক্ষ্যে বিরিশিরি কালচার একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এছাড়া গারো জাতিগোষ্ঠীর জন্য ট্রাইব্যুনাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন গঠন করেছিলেন।
তিনি বলেন, ২০০৭ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ আগ্রহে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে সংঘবদ্ধ ও সংগঠিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ২০১৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বিএনপির অস্থায়ী সংগঠন হিসেবে জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু হয়। এই প্রতিনিধি সমাবেশ ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর নিজ নিজ বিশ্বাস এবং সংস্কৃতি অক্ষণœœ রেখে বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে নিজেদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাবলম্বিতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তারেক রহমান বলেন, পাহাড়ি বা সমতলের সব জাতিগোষ্ঠী যদি নিজেদের স্বার্থ সম্পর্কে সচেতন থাকে, তবে কোনো অপশক্তি বিভ্রান্তি সৃষ্টির সুযোগ পাবে না। আমাদের এই বাংলাদেশ বহু জাতি ও সংস্কৃতির দেশ। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীকে ‘বাঙালি’ বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর মন থেকে সেই অবিশ্বাস দূর করতে সক্ষম হয়েছিলেন। বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে, ভাষা, গোত্র, বর্ণ কিংবা ধর্ম যার যার, কিন্তু বাংলাদেশ সবার। ধর্ম, গোত্র, ভাষা, পাহাড়ি বা সমতল, সবই বাংলাদেশের নাগরিক। সুতরাং সমতল, পাহাড়, রাজধানী, শহর, নগর, বন্দর, বা বসতি যেখানেই হোক, প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠন করতে চায়, যেখানে সব ভাষাভাষি ও জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হবে। বিএনপি দলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর যোগ্য প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি করবে। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য সাংস্কৃতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, ট্রাইব্যুনাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনকে ট্রাস্টে রূপান্তরিত করা, দেশি-বিদেশি তথ্য প্রযুক্তিতে শিক্ষিত করে গড়ে তোলা, নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান ও বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা একটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পেয়েছি। এই নতুন বাংলাদেশ গঠনে আমাদের একমত হতে হবে, তা হলো- আমরা প্রত্যেকটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করব।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু, উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের সহসভাপতি সুভাস চন্দ্র বর্মণ, সহসভাপতি ড. অঞ্জন কুমার চিছাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. জন জেত্রা, বিপুল হাজং প্রমুখ। এছাড়া দেশের ১৪টি জেলার ৩৪টি জাতিগোষ্ঠীর আদিবাসী প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।


