চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশ থেকে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৩৬৮ কোটি ৫৪ লাখ ৪০ হাজার ডলারের। এর মধ্যে ১ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের রপ্তানি হয়েছে কেবল দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পই। এ সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোতে বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৫ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার বা ৫৫১ কোটি ডলারের। এ রপ্তানি আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুসারে, ইইউ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে স্পেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস এবং ইতালিতে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় পোশাক রপ্তানিতে যথক্রমে ২৩ দশমিক ২৬ শতাংশ, ৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ, ১৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং ২৩ দশমিক ২২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে এ সময়ে ওই অঞ্চলের প্রধান বাজার জামার্নিতে বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার বা ১৪৫ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় পোশাক রপ্তানি ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক শূন্য ৭ বিলিয়ন ডলার বা ২০৭ কোটি ডলার হয়েছে। এ সময়ে যুক্তরাজ্য ও কানাডায় বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি হয়েছে যথাক্রমে ১৪৫ কোটি ডলার ও ৩৫ কোটি ২৮ লাখ ৬০ হাজার ডলারের। আলোচ্য সময়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশ দুটিতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২১ দশমিক ৩৫ শতাংশ ও ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার বা ২২৪ কোটি ডলারের। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসব বাজারে রপ্তানি হয়েছিল ১ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার বা ১৮০ কোটি ডলারের। এ হিসাবে আলোচ্য সময়ে এসব অঞ্চলে দেশ থেকে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এ সময়ে এসব অঞ্চলের প্রধান বাজার জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ায় যথাক্রমে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ৫৪ দশমিক ১১ শতাংশ এবং ৩৭ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, যদিও চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে আমাদের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। কিন্তু এ সময়ে আমাদের ব্যবসায়ীদের অনেক অর্ডার বাতিল হয়ে গেছে। সেটা না হলে এ রপ্তানি আয় আরও বাড়তে পারত। পাশাপাশি আলোচ্য সময়ে উৎপাদন খরচ বেড়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, বিশ্বব্যপী অস্থিরতার মধ্যে পোশাক খাতের ভালো করার জন্য অর্ডার বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। দেশের আরএমজি সেক্টর এখন যথেষ্ট প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং দক্ষ জনবলের মাধ্যমে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে আগামী দিনে এ খাত আরও ভালো করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বলেন, অপ্রচলিত অঞ্চলেও এখন বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি বাড়ছে। এটা ব্যবসায়ীদের আরও উৎসাহ দেবে।


