দিল্লির ঐতিহাসিক হুমায়ুনের সমাধিতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে সমাধির একটি গম্বুজের অংশ হঠাৎ ধসে পড়ায় অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত ও আটকা পড়া মানুষের সংখ্যা এখনও নিশ্চিত নয়, তবে স্থানীয় প্রশাসনের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে চাপা পড়ে থাকতে পারেন।
দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকায় অবস্থিত এই সমাধিতে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, ছুটির দিন হওয়ায় সে সময় সমাধিক্ষেত্রে প্রচুর পর্যটক ঘুরতে এসেছিলেন। হঠাৎ গম্বুজের একটি অংশ ভেঙে পড়ায় দর্শনার্থীরা আতঙ্কে ছুটোছুটি শুরু করেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এ সময় ধ্বংসস্তূপ সরাতে বিশেষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও পিটিআই জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও উদ্ধার তৎপরতায় যোগ দিয়েছে।
মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের এই সমাধি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা। নাসির-উদ-দিন মুহাম্মদ হুমায়ুন ১৫৩০ সালে সিংহাসনে বসেন। রাজত্বের এক পর্যায়ে শের শাহ সুরির কাছে পরাজিত হয়ে নির্বাসনে যান এবং পরে পারস্যের শাহের সহায়তায় পুনরায় সিংহাসন ফিরে পান। মাত্র এক বছর পর, ১৫৫৬ সালে, তাঁর মৃত্যু হয়।
১৫৬৫ সালে সমাধির নির্মাণ শুরু করেন তাঁর প্রথম স্ত্রী বেগা বেগম, যা নকশা করেন পারস্যের স্থপতি মীরক মির্জা গিয়াস। লাল বেলেপাথর ও সাদা মার্বেল দিয়ে নির্মিত এই স্থাপনাটি পারস্যের ‘চারবাগ’ শৈলী ও ভারতীয় স্থাপত্যকলার অনন্য মিশ্রণ। এই নকশা পরবর্তী মুঘল স্থাপত্য, বিশেষ করে তাজমহলের জন্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
হুমায়ুনের সমাধি শুধু সম্রাটের বিশ্রামস্থল নয়, বরং মুঘল রাজবংশের প্রায় ১৫০ সদস্যের সমাধি ক্ষেত্র, যাকে ‘মুঘল নেক্রোপলিস’ বলা হয়। ১৯৯৩ সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের মর্যাদা পাওয়া এই ঐতিহাসিক স্থাপনার একাংশ ধসে পড়া নিয়ে ইতিহাসবিদ ও স্থপতিদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে এলাকা কর্ডন করে রাখা হয়েছে এবং ধ্বংসাবশেষের নিচে কেউ জীবিত আছে কিনা তা খুঁজে বের করতে উদ্ধার কাজ চলছে।


