সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি পেঁয়াজ ও ডিমের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া বাজারে সব ধরনের সবজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকার ওপরে। অনেক সবজি কেজিপ্রতি ১০-১৫ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
গতকাল রাজধানীর মালিবাগ, রামপুরা , শান্তিনগর ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে বেশির ভাগ সবজির দামই বেড়েছে। গতকাল বাজারে এক কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮০-৮৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ৭০-৭৫ টাকা ছিল। পেঁয়াজের দাম বাড়লেও স্থিতিশীল রয়েছে অন্যান্য মসলার দাম। গতকাল এক কেজি দেশী রসুন ১৪০ ও আমদানি করা রসুন ১৬০ টাকা, চায়না আদা ২৬০ ও বার্মিজ আদা ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
গতকাল বাজারে সব ধরনের সবজির দাম ছিল ঊর্ধ্বমুখী। এক কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০ টাকা। এছাড়া এক কেজি ঢেঁড়স ৮০ টাকা, কাঁকরোল ৮০, ধুন্দল ৮০, করলা ৯০, গোল বেগুন ১০০, লম্বা বেগুন ৭০, পটোল ৭০, আমদানি করা কাঁচামরিচ ২০০, দেশী কাঁচামরিচ ১৬০, আমদানি করা টমেটো ১৮০, মুলা ৫০, শসা ৮০, বিট ১০০, পেঁপে ৩০, গাজর ১২০ ও ধনেপাতা ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া বড় মিষ্টি কুমড়া প্রতি পিস ৫০ টাকা ও কাঁচাকলা ৩০ টাকা হালি দরে বিক্রি হয়েছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের সবজি ৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গত সপ্তাহে এক কেজি ঢেঁড়স ৭০ টাকা, কাঁকরোল ৭০, ধুন্দল ৭০, করলা ৮০, পটোল ৭০, কাঁচামরিচ ১৮০, টমেটো ১৬০, মুলা ৪৫ ও শসা ৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।
রাজধানীর মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা মানিক বলেন, ‘প্রতিদিনই সবজির দাম বাড়ছে। বাজারে কোনো সংকট নেই, তার পরও কেন বাড়ছে সেটা অজানা। গত ছয় মাস থেকে এক বছরে বাজারে কোনো সিন্ডিকেট ছিল না। বর্তমানে অনেক ধরনের সিন্ডিকেটের কথা শুনছি। সরকারের উচিত বাজার তদারকির পরিমাণ আরো বাড়ানো।’
গতকাল বাজারে এক হালি এলাচ লেবু ২০ টাকা, কাগজি লেবু ৩০ ও শরবতি লেবু ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া সব ধরনের শাক আঁটিপ্রতি ১০-১৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। রাজধানীর পলাশীতে বাজার করতে এসেছিলেন গৃহিণী হালিমা বেগম। বাজারদর সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দ্রুতগতিতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। আজ যে দরে কিনছি দুদিন পর দেখি ৫-১০ টাকা বেড়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে বাজার আবার ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাবে।’
শাকসবজির পাশাপাশি বাজারে বাড়তি দরেই বিক্রি হচ্ছে সোনালি মুরগি। গতকাল এক কেজি সোনালি মুরগি ৩২০-৩৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। এক কেজি দেশী মুরগি বিক্রি হয়েছে ৫৫০ টাকা কেজিতে। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা। গতকাল রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। মুরগির পাশাপাশি বেড়েছে ডিমের দামও। গত সপ্তাহেও প্রতি ডজন ডিমের দাম ছিল ১৩০ টাকা। গতকাল এক ডজন ফার্মের মুরগির লাল ডিম ১৪০-১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক কেজি খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ ও গরুর মাংস ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ মাছ। এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা হাঁকছেন ব্যবাসয়ীরা। আর দেড় কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার টাকার কাছাকাছি। এছাড়া পাঁচ-ছয় পিছ মিলিয়ে এক কেজি এমন ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০০ টাকা। তবে শুধু ইলিশের দাম নয়, অন্যান্য মাছের দামও বাড়তি দেখা গেছে। দেড় কেজি ওজনের রুই মাছ কেজিপ্রতি ৪০০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের কম রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪০০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৩০০-৩৫০ টাকা পর্যন্ত। একই সাইজের কাতল মাছও বিক্রি হচ্ছে রুই মাছের দামে। বড় মাপের সরপুঁটি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৩০০ টাকায়। চাষের পাঙাশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকায়। কৈ মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচেছ ২৪০-২৫০ টাকায়। মাঝারি সাইজের কৈ মাছও বিক্রি হচ্ছে ২৫০-২৮০ টাকায়।
এছাড়া পাবদা বড় সাইজ ৬০০ টাকা, বাগদা চিংড়ি কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। মাঝারি সাইজের রূপচাঁদা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ আর বড় সাইজের ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়।


