জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে শুয়ে থাকা ৯৫ শতাংশ দগ্ধ একটি শিশু শেষবার চোখ মেলে বড় বোনকে বলেছিল, ‘আমার শরীর কি অনেক পুড়েছে, আপু?’—আর তখনই যেন থমকে যায় সময়।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আবদুল্লাহ শামীম ছিল আগুনে ঝলসে যাওয়া একটি সাহসী প্রাণ। যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে স্কুলে আগুন ছড়িয়ে পড়লে, সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও সে নিজেই হেঁটে যায় সেনাসদস্যদের কাছে সাহায্য চাইতে। চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় পর্যন্ত শামীম নিজে ফোন নম্বর বলেছিল ডাক্তারদের।
শরীয়তপুরের মেয়ে ফারজানা কনিকা ভাইয়ের কাছে ছুটে যান বার্ন ইনস্টিটিউটে। ভাই তখনো জীবিত। পানি চেয়েছিল। এবং সর্বশেষ প্রশ্নটি—‘আপু, আমার শরীর কি অনেক পুড়েছে?’
মৃত্যুর আগে ভাইকে সাহস দিতে গিয়ে ফারজানা বলেছিলেন, ‘না ভাইয়া, তুমি ভালো হয়ে যাবে।’ কিন্তু তার ভাই আর ফিরেনি। মঙ্গলবার সকালে তাকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।
এই একটি ঘটনা যেন প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে সেই বিভীষিকাময় দিনের। নিহত হয়েছে আরও অনেক শিশু, নিখোঁজ বহু মা-বাবা।
সেই তালিকায় আছে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী রাইসা মনিও। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর তার লাশ শনাক্ত করেন বাবা। অন্যদিকে সপ্তম শ্রেণির উক্য সাইন মারমা বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। সে ছিল একমাত্র সন্তান।
আফসানা প্রিয়া নামের এক মা তার ছেলেকে স্কুল থেকে আনতে গিয়ে এখনো নিখোঁজ। ছেলে আফসান ওহী অক্ষত ফিরে এসেছে, কিন্তু তার মায়ের কোনো খোঁজ নেই। নিখোঁজদের সন্ধানে স্বজনরা বার্ন ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটে বেড়াচ্ছেন।
একজন স্বজনের কণ্ঠে উঠে আসে মর্মস্পর্শী বাক্য: ‘গত রাত ছিল হাজার রাতের চেয়েও দীর্ঘ।’
এই ভয়াবহ ঘটনার পর বার্ন ইউনিটের সামনে ভিড় করেছেন অগণিত স্বজন। কারও হাতে সন্তানদের ছবি, কারও হাতে স্কুলব্যাগ কিংবা পোড়া পোশাক—সবই প্রিয়জনকে খুঁজে পাওয়ার শেষ চেষ্টা।


