রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে ভাঙারি ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে উঠে এসেছে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ও পূর্বশত্রুতার চাঞ্চল্যকর তথ্য। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে মামলার প্রধান আসামি মাহমুদুল হাসান মহিন দাবি করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী তিনি নন, বরং পলাতক আসামি সারওয়ার হোসেন টিটু এই হামলার মূল হোতা।
রোববার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুর রহমানের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মহিন বলেন, সোহাগের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। বরং দীর্ঘদিন ধরে টিটুর সঙ্গে সোহাগের ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব চলছিল। ঘটনার দিন সোহাগকে হুমকি দিতে গিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে টিটু, মহিন, টিটন গাজী, আলমগীর, সজীব ব্যাপারীসহ অন্যরা মিলে সোহাগকে মারধর করে হত্যা করে।
মহিনের ভাষ্যমতে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সোহাগ এলাকায় ভাঙারি ব্যবসার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। সেই সময়ে মহিন ও টিটন ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হন এবং সোহাগের ‘প্রভাবশালী রাজনৈতিক সম্পর্ক’ ব্যবহার করে তারা বহুবার হয়রানির শিকার হন। সরকার পরিবর্তনের পর মহিন-টিটন ব্যবসায় নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে সোহাগকে চাপ দিতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটে সোহাগ হত্যা।
হত্যাকাণ্ডে পাথর দিয়ে আঘাতের বিষয়ে মহিন জানান, অংশগ্রহণকারীরা প্রত্যেকেই সোহাগের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। অতীতে সোহাগ তাদের অনেককেই লাঞ্ছিত করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ মামলার পলাতক প্রধান পরিকল্পনাকারী সারওয়ার হোসেন টিটুকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এখন পর্যন্ত মামলায় ৯ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজন আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
কোতোয়ালি থানার ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, গ্রেফতার আসামিদের দেওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতার এবং ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


