আওয়ামী লীগের পতিত সরকারের সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আদালতের নির্দেশে তার প্রায় ৪০০ কোটি টাকার সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বিশাল পরিমাণ জমি, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বাণিজ্যিক স্থাপনা।
সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দস্তগীর গাজী ও তার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখল, কমিশন বাণিজ্য, জালিয়াতি, হুন্ডি, ইনভয়েস জালিয়াতি ও সংগঠিত অপরাধের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। এই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার খাদুন এলাকায় তার মালিকানাধীন ৪৮৭৯ শতাংশ জমিসহ প্রায় ৪০০ কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এসব সম্পত্তি তিনি ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে অর্জন করেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। শুধুমাত্র জমির দলিল মূল্যই প্রায় ১৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা হলেও, জমির ওপর গড়ে ওঠা অবকাঠামো, গাজী টায়ার কারখানা ও অন্যান্য বাণিজ্যিক স্থাপনার প্রকৃত বাজারমূল্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ছুঁয়েছে।
সিআইডি সূত্র জানায়, ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের আবেদনের ভিত্তিতে ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত ৮ জুলাই এই সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া হলো বলে মন্তব্য করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে দস্তগীর গাজীর বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগেও তদন্ত চলছে। তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সহায়তায় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ চলছে।
সিআইডির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে দস্তগীর গাজী ও তার অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।


