নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বহু আলোচিত ‘নৌকা’ প্রতীক। বুধবার (১৬ জুলাই) সকালে ইসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ঘুরে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ (নিবন্ধন স্থগিত) নামের পাশে আর নেই তাদের দীর্ঘদিনের প্রতীক ‘নৌকা’।
ইসি সচিবালয়ের সিস্টেম ম্যানেজার মো. রফিকুল হক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই প্রতীকটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।”
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। এর ঠিক আগের দিন মঙ্গলবার, ফেসবুকে একটি ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া পোস্টে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তীব্র প্রশ্ন তোলেন—“কেন নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতীক আবার শিডিউলভুক্ত করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?”
তিনি পোস্টে আরও লেখেন, “অভিশপ্ত ‘নৌকা’ মার্কাটাকে কোন যুক্তিতে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠালেন আপনারা? কাদের স্বার্থে এই প্রতীক রক্ষা করা হচ্ছে?”
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র ও জনতার অভ্যুত্থানে পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। এরপর চলতি বছরের ১২ মে অন্তর্বর্তী সরকার এক প্রজ্ঞাপনে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। পাশাপাশি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনী প্রতীকের তালিকা থেকে ‘নৌকা’ সরিয়ে ফেলার মাধ্যমে ইসি এবার স্পষ্ট বার্তা দিল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত একদিকে আইনি নির্দেশনার বাস্তবায়ন, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহারের প্রশ্নে নিরপেক্ষতার বার্তা।
তবে নৌকা প্রতীকের সরানো নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি বা প্রেস বিবৃতি দেয়নি ইসি। ফলে এ নিয়ে জনমনে আরও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—এই পদক্ষেপ শুধুই নিয়মতান্ত্রিক, না কি রাজনৈতিক চাপ ও প্রতিক্রিয়ার ফল?
এখন দেখার বিষয়, এ সিদ্ধান্ত আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে।


