বিনা অনুমতিতে দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে আরও চার পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। গত বছরের আগস্ট থেকে বিভিন্ন সময়ে তারা কর্মস্থলে না গিয়ে ‘পলায়নের অপরাধে’ অভিযুক্ত হন। এ নিয়ে চলতি বছরে মোট ২১ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলো।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্র জানায়, বরখাস্ত হওয়া চার কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তৌহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. রওশানুল হক সৈকত, সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. গোলাম রুহানী এবং মফিজুর রহমান পলাশ।
রোববার (১৩ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে আলাদা চারটি প্রজ্ঞাপন জারি করে তাদের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়। এসব প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপসচিব নাসিমুল গনি।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের এডিসি মো. রওশানুল হক সৈকত, যিনি র্যাবে বদলির আদেশপ্রাপ্ত ছিলেন, গত বছরের ২৫ আগস্ট থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী তিনি অসদাচরণ ও পলায়নের শাস্তিযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত।
অন্যদিকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তৌহিদুল ইসলাম ১০ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। একই ধরনের অপরাধে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এছাড়া ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. গোলাম রুহানী ১১ আগস্ট এবং মিরপুর ট্রাফিক জোনের সহকারী কমিশনার মফিজুর রহমান পলাশ ৬ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, বরখাস্তকালীন এই কর্মকর্তারা নির্ধারিত হারে খোরপোষ ভাতা পাবেন।
এর আগেও চলতি বছরের ১৫ জুন একই কারণে ১৪ পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একাধিক কর্মকর্তা বারবার দায়িত্ব পালনে অবহেলা করায় বিষয়টি এখন প্রশাসনিকভাবে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সরকারি দায়িত্বে অনুপস্থিতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরে তদন্ত ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।


