রাজধানীর পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে চাঁদা আদায়ের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপি নেতা ও ঢাকা-৭ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ইসহাক সরকারের নির্দেশেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
সূত্র জানায়, সরকার পরিবর্তনের পর এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় বিএনপি। ইসহাক ওই অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৬ লাখ টাকা করে চাঁদা তুলতেন। সম্প্রতি এ পরিমাণ দ্বিগুণ করে ১২ লাখ টাকা নির্ধারণ করেন এবং চাঁদা আদায়ের দায়িত্ব সোহাগের কাছ থেকে নিয়ে দেন যুবদল নেতা মহিনকে। বিষয়টি জানতে পেরে সোহাগ বিএনপির আরেক প্রভাবশালী নেতা হামিদের গ্রুপে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে ইসহাকের ক্ষোভের শিকার হন তিনি।
বুধবার সন্ধ্যায় মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে সোহাগকে পিটিয়ে ও পাথর দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, হত্যার পরও লাশের ওপর বর্বর নির্যাতন চালায় হামলাকারীরা। ঘটনার পরপরই যুবদল ও ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততা সামনে আসে। এখন পর্যন্ত যুবদল নেতা মহিন ও রবিনসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার ঘটনায় অস্ত্র আইনে পৃথক মামলাও হয়েছে।
বিএনপি এ ঘটনায় কড়া অবস্থান নিয়েছে। যুবদল নেতা রজ্জব আলী পিন্টু ও সাবাহ করিম লাকিকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। এদিকে এ হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি, গণসংহতি আন্দোলন, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন পৃথক বিবৃতিতে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতাল এলাকা ও আশপাশে নানা অবৈধ উপায়ে চাঁদাবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে একাধিক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার সম্পৃক্ততা রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার ঘটনায় আরও ১৫-২০ জন অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।


