রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে শুরু করায় দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন করে গতি এসেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এ সময়ে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশে।
এর আগে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই-সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কারণে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছিল মাত্র ১ দশমিক ৮১ শতাংশে। ব্যবসা-বাণিজ্যে ছিল চরম ধীরগতি, বিনিয়োগকারীরা ছিলেন দ্বিধান্বিত। তবে বর্তমানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় ব্যবসা পরিবেশ উন্নত হয়েছে এবং বিনিয়োগে আস্থা বাড়ছে।
বিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে কৃষি খাতে উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে, যা সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি সেবা খাতেও গতি এসেছে। তবে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বাড়লেও, এখনও তা প্রত্যাশিত গতিতে ফিরেনি।
সরকারি খাতে বিনিয়োগও এ প্রান্তিকে কিছুটা বেড়েছে, যা অবকাঠামো ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত অনুযায়ী এখন থেকে বাংলাদেশ সরকার প্রতি তিন মাস অন্তর জিডিপির তথ্য প্রকাশ করছে। এই নিয়মে অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র আরও দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পাওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা নীতি-নির্ধারকদের জন্য সহায়ক।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা জরুরি। পাশাপাশি, শিল্পখাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ও দক্ষ জনবল উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, সংকট পেরিয়ে দেশের অর্থনীতি আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। তবে টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন।


