মিডল্যান্ড ব্যাংকের পরিচালক পদ হারানো ইসা বাদশার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। জানা গেছে, তিনি তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ৬১৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তিনি ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালক এবং বোর্ড অডিট কমিটির সদস্য ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে ঋণের খেলাপি হিসেবে পদ থেকে বাদ দেয়। তবে এখন কানাডায় অবস্থান করছেন তিনি।
ইসা বাদশা এবং তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংকসহ একাধিক ব্যাংকে ঋণখেলাপি ছিলেন। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হচ্ছে, তার বিপুল পরিমাণ অর্থ কানাডায় পাচার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা নিয়ে বর্তমানে পুলিশ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করেছে।
অর্থাৎ, ২০২৩ সালের মে পর্যন্ত ইসা বাদশার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন হিসাবে ৬ হাজার ২৯৯ কোটি টাকা জমা এবং ৬ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা উত্তোলন হয়েছে, তবে তার হিসাবে স্থিতি ছিল মাত্র ৬ কোটি টাকা। এছাড়া, তার নামে ৬১৬ কোটি টাকার ঋণ মন্দ ঋণ হিসেবেও খেলা রয়েছে। কানাডায় অবস্থানরত ইসা বাদশার সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো ব্যাংক যোগাযোগ করতে পারছে না। ফলে বিএফআইইউ ইতোমধ্যে কানাডা থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ইসা বাদশা এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে কানাডায় বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে, তারা প্রায় ২৪ ঘণ্টায় ১০ হাজার কানাডিয়ান ডলার বা এর অধিক নগদ লেনদেন করেছে, যা সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া, কানাডায় ইসা বাদশার ব্যাংক হিসাব থেকে ৬ লাখ ১৩ হাজার মার্কিন ডলার পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইসা বাদশা দেশের বাইরেও বিভিন্ন বিনিয়োগ করেছেন, তবে বাংলাদেশ ব্যাংক তার বিদেশে বিনিয়োগের অনুমতি দেয়নি। এর মাধ্যমে, তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগও উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে, ইসা বাদশা এবং তার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক তদন্ত চলমান রয়েছে।


