প্রায় আট বছর ধরে স্থবির হয়ে পড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অবশেষে দেখা দিয়েছে আশার আলো। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া তালিকাভুক্ত ৮ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে মিয়ানমারের জান্তা সরকার প্রথম ধাপে ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি আরও ৭০ হাজার রোহিঙ্গা চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশ সরকারের রোহিঙ্গা বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি খলিলুর রহমানের সঙ্গে মিয়ানমারের উপপ্রধানমন্ত্রী ইউ থান শিউর বৈঠকে এই তথ্য জানানো হয়। বৈঠকের খবর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ফেসবুক পোস্টে প্রকাশিত হলে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের এই সম্মতি বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি। কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, “এটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ। এতদিনে প্রত্যাবাসনে দৃশ্যমান অগ্রগতি হলো।” এদিকে, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর এবং কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেওয়াও প্রত্যাবাসন উদ্যোগে গতি এনেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সফরে তিনি রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের অতিরিক্ত কমিশনার আবু সালেহ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ জানিয়েছেন, কক্সবাজারের টেকনাফ ও বান্দরবানের ঘুমধুমে ট্রানজিট সেন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তালিকা হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় প্রত্যাবাসন শুরু হবে। তবে রোহিঙ্গা নেতাদের উদ্বেগ এখনো কাটেনি। তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রত্যাবাসনের স্থান সম্পর্কে মিয়ানমারের স্পষ্ট ঘোষণা দাবি করেছেন। আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, “আমরা নিজ দেশে ফিরতে চাই, তবে নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে। মিয়ানমার আমাদের কোথায় রাখবে—সেটা এখনো পরিষ্কার নয়।” সবমিলিয়ে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নতুন করে আশার সঞ্চার হলেও বাস্তবায়নের পথে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।


