জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সোমবার ২১,১৩৯.৪৫ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ১৫টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। সভা শেষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, এসব প্রকল্পের মধ্যে সাতটি নতুন ও আটটি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ ও উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯,৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩.১৩ মিলিয়ন শিক্ষার্থীকে সপ্তাহে পাঁচ দিন ফোর্টিফাইড বিস্কুট, কলা, মৌসুমি ফল, পাউরুটি, ডিম এবং পাস্তরিত দুধ সরবরাহ করা হবে।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, খাদ্য সরবরাহের প্রতিটি ধাপে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা হবে যাতে অনিয়ম এড়ানো যায়। তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় বাজারে যেন এসব খাবার পুনরায় বিক্রি করা না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।”
সভায় সরকারি মালিকানাধীন অব্যবহৃত জমির যথাযথ ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। রেলওয়ে, পানি উন্নয়ন বোর্ড, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সংস্থার বিশাল পরিমাণ জমি অনুৎপাদনশীল অবস্থায় রয়েছে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানান, লাভজনক ও উপযুক্ত স্থানগুলো চিহ্নিত করে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।
এছাড়া, বন্ধ পাটকল ও চিনিকলের পরিত্যক্ত জমির কার্যকর ব্যবহার নিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় কাজ করবে। একইসঙ্গে নদী অবকাঠামো ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ গ্রহণ এবং দেশের ১০টি নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ পায়রা সমুদ্র বন্দরের দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এটি অর্থনীতির জন্য মারাত্মক বোঝা। নাব্যতা বজায় রাখতে প্রতিনিয়ত খনন করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হবে।”
প্রকল্প বাস্তবায়ন তদারকির জন্য আইএমইডি-কে (বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ) আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি অনলাইনে প্রকাশ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।
সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দরপত্র পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং আগামীতে এটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হবে।সভায় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সচিবরা।


