সুজানগরে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠছে। ডাকাতি, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও অবৈধ বালু উত্তোলনসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েছেন একাধিক বিএনপি নেতা। এতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ যেমন আতঙ্কিত, তেমনি দলীয় শীর্ষ নেতারাও বিব্রত। এসব নেতাদের দ্রুত শাস্তির দাবি তুলেছেন বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
সম্প্রতি সুজানগর পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাবু খাঁ এবং বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মানিক খাঁর নেতৃত্বে এক স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মালিক ভয়ে থানায় অভিযোগও করতে পারেননি। কয়েক মাস পর সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হলে বিষয়টি আলোচনায় আসে, কিন্তু তারপরও কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া, বিএনপি নেতা মজিবুর খাঁ (২), বাবু খাঁ, মানিক খাঁ ও তাদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে জামায়াত নেতাদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলে তাদের নামে অভিযোগ গঠন করা হয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সুজানগরে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দখল ও চাঁদাবাজির নেতৃত্বে ছিলেন ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতা। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিএনপির একাংশ এই অপকর্মের নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিএনপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে। এদের মধ্যে বাবু খাঁ, মানিক খাঁ, মজিবুর খাঁ (২) ও কামাল শেখের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত। বিএনপির শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে এসব অপকর্মের নিন্দা জানালেও, অপরাধীরা দলীয় ছত্রচ্ছায়ায় থাকায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবিএম তৌফিক হাসান আলহাজ বলেন, “কিছু নেতার কর্মকাণ্ড আমাদের বিব্রত করছে। দলে এসব সন্ত্রাসীদের জায়গা নেই। তাদের বিচার হওয়া উচিত।”
স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন বলছে, কিছু ঘটনা রাজনৈতিক কারণে ঘটেছে, তবে অভিযোগের সত্যতা রয়েছে। সুজানগর থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, “স্বর্ণের দোকানে হামলার ঘটনায় লুটপাটের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।” এদিকে অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। তবে সুজানগরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অপরাধীদের দৌরাত্ম্যে দলে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।


