বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে বিনিয়োগের অনেক সুযোগ অপেক্ষা করছে। তাই এখনই বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে ব্যবসা করার সঠিক সময়। সেজন্য জাপানে অবস্থানরত প্রবাসী ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। তিনি গতকাল জাপানের রাজধানী টোকিওতে অনুষ্ঠিত ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২৩ ‘দ্য রাইজ অব বেঙ্গল টাইগার: পটেনশিয়ালস অব ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক রোড শোতে এসব কথা বলেন।
বিএসইসি ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ রোড শোতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারের রোড শো পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির ষষ্ঠতম আয়োজন।
অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, ‘দেরি হওয়ার আগেই বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুন। বাংলাদেশে বিনিয়োগে বেশকিছু সুবিধা রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা, আর্থিক ও রাজস্ব নীতি এবং বিনিয়োগবান্ধব সরকার, মুনাফাসহ বিনিয়োগ প্রত্যাবর্তনের জন্য কোনো প্রাক-অনুমোদন নেই এবং সমুদ্রসম্পদনির্ভর অর্থনীতি রয়েছে। আমাদের পুঁজিবাজারও দারুণ ভূমিকা রাখছে। অন্যান্য দেশের তুলনায় এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে কম অস্থিরতা বিরাজ করছে। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ভালো পারফরম্যান্স করেছে। এ বছর আমাদের পুঁজিবাজারে ৭৪ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার মূলধন বিনিয়োগ করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ক দিনে দিনে আরো শক্তিশালী হচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য অনেক বেড়েছে। গত ১০ বছরে এটা ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। জাপানে রফতানি আগের চেয়ে তিন গুণ বেড়েছে। আশা করছি এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দুই দেশের আমদানি ও রফতানি ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো বাড়বে। ২০২১-২২ অর্থবছরের বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগ বেড়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে বাংলাদেশে জাপানের আরো অনেক বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে। আগামীতে বাংলাদেশ জাপানের কাছ থেকে বড় বিনিয়োগ প্রত্যাশা করে।’
বিএসইসির চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। সমস্যাটি ছিল নেতিবাচক খবর, অপপ্রচার। বলা হতো, আমরা গরিব দেশ, শিক্ষার হার অনেক কম, নারী ও পুরুষের বৈষম্য, প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অভাব রয়েছে। এগুলো সবই পুরনো ধারণা, আসলে সেগুলো আর বিদ্যমান নেই। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের জিডিপি ছিল নেগেটিভ ১৪ শতাংশ। বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতা ছিল ৯৮ শতাংশ। মাথাপিছু আয় ছিল ১৪০ ডলার। আর ২০২২ সালে এসে জিডিপি দাঁড়িয়েছে ৭.১ শতাংশে। বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৯০ শতাংশে। মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৯৩ ডলারে। এতেই বোঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশে কী ধরনের পরিবর্তন হয়েছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে।’
শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘কভিড-১৯ মোকাবেলায় বাংলাদেশের বেশ সাফল্য রয়েছে। নিরাপদ বিনিয়োগের জন্য এ দেশের সম্ভাবনা অনেক। অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি এখনো কম। আমাদের রেমিট্যান্স আয়ও বাড়ছে। এখনো বাংলাদেশের অর্থনীতি যথেষ্ট ভালো অবস্থানে আছে। তাই বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং অশেষ সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশে ৩৯টি হাই-টেক পার্ক, ৯৭টি ইকোনমিক জোন ও আটটি ইপিজেড রয়েছে। আন্তর্জাতিক ইলেকট্রনিকস কোম্পানি ও মোটর কার কোম্পানি বাংলাদেশে উৎপাদনে আসছে। আমরা পরবর্তী চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।’


