আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন এবং প্রশাসন ক্যাডারের পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রতিবাদে রোববার সারাদেশে কর্মবিরতি ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তারা। তারা দাবি করেন, একই ধরনের কাজের জন্য প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা ছাড় পেলেও অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যা বৈষম্যমূলক আচরণেরই প্রমাণ। রাজশাহীতে ২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তারা মহানগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট থেকে রাজশাহী কলেজ পর্যন্ত কালো ব্যাজ পরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। বক্তারা বলেন, সম্প্রতি সামান্য কারণে ২৫ ক্যাডারের ১২ জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, অথচ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা একই ধরনের কাজ করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
লক্ষ্মীপুরের ১০০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করেছেন। যদিও জরুরি বিভাগের চিকিৎসা সেবা চালু রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা বলেন, তারা শুধু আন্তঃক্যাডার বৈষম্যই নয়, আর্থিক ও সামাজিক বৈষম্যেরও শিকার হচ্ছেন। তাদের দাবি, এই বৈষম্য দূর করে সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হোক।ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক খন্দকার কামরুজ্জামান, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তফা কামাল ও জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক আক্তার হোসেন। তারা বলেন, প্রশাসন ক্যাডারের একচ্ছত্র আধিপত্য এবং অন্যান্য ক্যাডারের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতির অবসান হওয়া জরুরি।
চুয়াডাঙ্গায় সরকারি কলেজের শিক্ষকরা ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে কর্মবিরতি ও মানববন্ধন করেছেন। বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক খন্দকার রোকনুজ্জামান, শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সম্পাদক ফরহাদ উদ্দীন এবং কলেজ ইউনিট সম্পাদক জাহিদুল হাসান।মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ও সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারাও কর্মবিরতি পালন করেন। বক্তারা বলেন, প্রশাসন ক্যাডারের একচেটিয়া ক্ষমতার কারণে অন্য ক্যাডারগুলোর যথাযথ মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মো. মনছুর আলমগীর, আজম হাসান কবির, মনোয়ার হোসেন, মোবারক খান, ফারহানা হামিদসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা জানান, আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসনের জন্য সরকারের কাছে বারবার আবেদন করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।


