Thursday, June 4, 2026
Home জাতীয় দেশে নারীর প্রতি যৌন সহিংসতা বেড়েছে, আইনি সহায়তা কমসংখ্যক ভুক্তভোগী

দেশে নারীর প্রতি যৌন সহিংসতা বেড়েছে, আইনি সহায়তা কমসংখ্যক ভুক্তভোগী

গত এক দশকে বাংলাদেশে নারীর প্রতি যৌন সহিংসতার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৫ সালে এই হার ছিল ২৭ দশমিক ২ শতাংশ। তবে যৌন সহিংসতা বাড়লেও শারীরিক সহিংসতার হার কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত “নারীদের ওপর সহিংসতা শীর্ষক জরিপ ২০২৪”-এর প্রাথমিক প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হয়। জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) এই গবেষণায় সহায়তা করেছে।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাংলাদেশের অধিকাংশ নারী তাদের জীবনসঙ্গী বা স্বামীর মাধ্যমে সহিংসতার শিকার হন। দাম্পত্য জীবনে সহিংসতা এখনো ব্যাপকভাবে বিদ্যমান, যা নারীদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় গভীর প্রভাব ফেলছে জরিপে চার ধরনের সহিংসতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে—শারীরিক, যৌন, অর্থনৈতিক এবং মনস্তাত্ত্বিক সহিংসতা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সহিংসতার শিকার নারীদের মধ্যে মাত্র ৭ দশমিক ৪ শতাংশ আইনের আশ্রয় নেন। বিপরীতে, ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ নারী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না। এছাড়া, ৬৪ শতাংশ নারী নিজেদের ওপর হওয়া সহিংসতার ঘটনা কারও সঙ্গে ভাগ করে নেন না। বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার প্রকোপ এতটাই বেশি যে ৭০ শতাংশ নারী তাদের জীবদ্দশায় অন্তত একবার হলেও শারীরিক, যৌন, মানসিক এবং অর্থনৈতিক সহিংসতা বা নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন। গত এক বছরে ৪১ শতাংশ নারী এ ধরনের সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছেন। জাতিসংঘের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী তৈরি এই জরিপে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় সহিংসতার প্রকৃত হার আরও বেশি হতে পারে। যদি সাংস্কৃতিকভাবে গৃহীত সহিংসতার ধরনগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে জীবনে অন্তত একবার সহিংসতার শিকার নারীর হার বেড়ে দাঁড়ায় ৭৬ শতাংশ এবং গত এক বছরে এ হার ৪৯ শতাংশ।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ বলেন, “নারীর প্রতি সহিংসতা কমাতে মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। ইউরোপ ও আমেরিকার মতো দেশেও সহিংসতা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট পরিবেশে, যেমন হজের সময়, সহিংসতার ঘটনা ঘটে না, কারণ তখন মানুষের ধর্মীয় মনোযোগ থাকে। তাই সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে হবে। “বিবিএস মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আকতার, ইউএনএফপিএ’র প্রতিনিধি মাসাকি ওয়াটাবে ও অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশনের ডেপুটি হেড অব মিশন ক্লাইনটন পবিক। মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ইফতেখার করিম, আর প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনা করেন যুগ্ম সচিব দীপঙ্কর রায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

বর্তমান ভবনে চিকিৎসা কার্যক্রমের উপযোগিতা নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাজধানীর মগবাজারের আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক ও সেবিকাদের দায়িত্বে একাধিক গুরুতর ত্রুটির প্রমাণ পেয়েছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে...

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’ সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’ সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪ জুন বৃহস্পতিবার সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে...

লাগেজ থেকে মালামাল চুরি ‘গুজব’ বলে দাবি সরকারের

হজ শেষে দেশে ফেরা যাত্রীদের লাগেজ থেকে মালামাল চুরির অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান...

বিএসইসির নতুন কমিশনার হলেন যারা

শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে খ্যাতনামা চার্টার্ড...

Recent Comments