ঢাকার আধুনিক পরিবহনব্যবস্থার বড় প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বিমানবন্দর-কমলাপুর পাতাল মেট্রোরেল, যা ঢাকাবাসীর যাতায়াতকে আরও সহজ ও গতিশীল করবে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম আবদুর রউফ জানিয়েছেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর এবং নতুন বাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত পাতাল রেল প্রকল্পের নির্মাণকাজ পুরোদমে চলছে। প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য হবে ৩১.২৪১ কিলোমিটার, যার মধ্যে ১৯.৮৭২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ এবং ১১.৩৬৯ কিলোমিটার এলিভেটেড লাইন থাকবে। এই রুটে ১৪টি ভূগর্ভস্থ এবং ২টি উড়াল স্টেশন নির্মাণ করা হবে।
কুড়িল-নর্দা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বর্তমানে ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ চলছে। প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত নেওয়া হচ্ছে, যাতে নির্মাণকাজের সময় দুর্ভোগ কম হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩,৯৭৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ৩৯,৪৫০ কোটি টাকা সহায়তা দিচ্ছে এবং বাকিটা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে আসবে।
ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, এমআরটি লাইন-১ এবং ডিপোর জন্য ৮৮.৭১ একর ভূমি উন্নয়নের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি ১২টি প্যাকেজে ভাগ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার মধ্যে ১১টি প্যাকেজের টেন্ডারিং শেষ এবং বাকি একটি প্যাকেজের কাজ আগামী সপ্তাহে শুরু হবে। উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি-৬ লাইনের ২০ কিলোমিটার রুট ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। ডিএমটিসিএল আরও জানিয়েছে, ঢাকা ও সংলগ্ন এলাকায় ২০৩০ সালের মধ্যে ১৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যার অর্ধেকের বেশি ভূগর্ভস্থ হবে।
এই ছয়টি মেট্রোরেল লাইন ১০০টিরও বেশি স্টেশন সংযুক্ত করবে, যা প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। ডিএমটিসিএল এখনও নির্দিষ্ট উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা না করলেও, তারা যত দ্রুত সম্ভব কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে। নির্মাণকাজ শেষ হলে এই পাতাল রেল ঢাকার যানজট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দ্রুত ও স্বস্তিদায়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।


