আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত জানান। আইন উপদেষ্টা জানান, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে চারটি মামলার তদন্ত শেষ হবে। যাচাই-বাছাইয়ের পর আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হবে, যা তিন সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ঈদের পর মূল বিচার শুরু হবে।
তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি, অক্টোবরের মধ্যে তিন থেকে চারটি মামলার রায় ঘোষণা করা সম্ভব হবে। এসব মামলায় শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।”তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকে জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ৩০০টিরও বেশি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলাগুলোর বিষয়ে আশার কথা জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে এই আইনের আওতায় করা ৩৯৬টি মামলার মধ্যে ৩৩২টি মামলা প্রত্যাহার করেছি। আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাকি সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে।” সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন করে সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের পর থেকে বিতর্কিত মামলাগুলো পর্যালোচনা করে ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা মামলাগুলোর পর্যালোচনা চলছে। ইতোমধ্যে ১৬,৪৩৯টি মামলা চিহ্নিত করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১,২১৪টি মামলা এক সপ্তাহের মধ্যে প্রত্যাহার করা হবে। পাশাপাশি ৫৩টি মামলার প্রত্যাহারের গেজেট আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে।” তিনি বলেন, “সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


