বাংলাদেশের নারী ফুটবলে চলছে অস্থিরতা। ইংলিশ কোচ পিটার বাটলারের অধীনে খেলতে রাজি নন সাফজয়ী দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়। কোচের অপসারণের দাবি জানিয়ে তারা বাফুফের কাছে চিঠিও দিয়েছেন। যদি বাটলার দায়িত্বে থাকেন, তবে খেলা ছেড়ে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন এই নারী ফুটবলাররা। তবে কোচ বাটলার নিজের অবস্থানে অনড় থেকে বিদ্রোহী খেলোয়াড়দের বাদ দিয়ে বাকিদের নিয়ে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই সংকটের সমাধানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ইতোমধ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। তবে সমাধানের পথ খুঁজতে থাকা এই সময়েই চরম হুমকির মুখে পড়েছেন সাফজয়ী নারী দলের অন্যতম সদস্য মাতসুশিমা সুমাইয়া। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনে অসংখ্যবার তাকে হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সুমাইয়া হচ্ছেন সেই ফুটবলার, যিনি কোচের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী ১৮ জন ফুটবলারের পক্ষে আনুষ্ঠানিক চিঠি লিখেছিলেন বাফুফের কাছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই চিঠিই তাকে এত বড় হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এক ফেসবুক পোস্টে সুমাইয়া লেখেন, “আমার নাম মাতসুশিমা সুমাইয়া। আমি বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের একজন খেলোয়াড়। ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা ছিল, আর সেই ভালোবাসা থেকেই বাংলাদেশকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতাতে অবদান রেখেছি। কিন্তু এখন আমি হতাশ—আমি আমার শিক্ষা, পরিবার, ঈদ, সবকিছু বিসর্জন দিয়েছি এমন একটি দেশের জন্য, যে দেশ আমাদের লড়াইয়ের মর্যাদা দিতে জানে না।”
সুমাইয়া আরও লেখেন, “ফুটবল খেলার জন্য আমি আমার মা-বাবার সঙ্গে লড়াই করেছি, এই বিশ্বাসে যে আমার দেশ আমাকে সমর্থন দেবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। কেউই একজন ক্রীড়াবিদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবে না। গত কয়েকদিনে অসংখ্যবার হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি পেয়েছি, যা আমাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে।”
কোথা থেকে এবং কারা তাকে হুমকি দিচ্ছে, তা স্পষ্ট করেননি সুমাইয়া। তবে এই হুমকিগুলো তার মানসিক স্বাস্থ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। পোস্টের শেষ অংশে তিনি বলেন, “আমি জানি না, এই মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থা কাটিয়ে উঠতে আমার কত সময় লাগবে। তবে আমি চাই না, শুধুমাত্র নিজের স্বপ্ন অনুসরণ করার জন্য আর কোনো নারী খেলোয়াড়কে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হোক।”
নারী ফুটবল দলের এই সংকট ও সুমাইয়ার প্রতি আসা হুমকি নিয়ে বাফুফে কী পদক্ষেপ নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।


