ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনেও অফিস খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) জারি করেছে নির্বাচন কমিশনের জনবল ব্যবস্থাপনা শাখা।
নির্বাচন কমিশনের সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি-২০২৫ উপলক্ষ্যে ২০ জানুয়ারি থেকে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এরপর ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে। এ কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনার স্বার্থে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে (রাজস্ব, আউটসোর্সিং, সংযুক্ত ও দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োজিত) সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনেও অফিসে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, ভোটার তালিকা হালনাগাদ সংক্রান্ত হিসাবরক্ষণ কাজেও কোনো ধরনের বিলম্ব না হয়, সে জন্য হিসাবরক্ষণ অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটির দিনেও অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে। সরকারি পরিবহন পুলের গাড়িচালকদেরও এ সময়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় যানবাহন সেবা নিশ্চিত করা যায়।
নির্বাচন কমিশনের এই আদেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাংগঠনিক কাঠামোর বাইরের সংশ্লিষ্ট দেহরক্ষী, গানম্যান, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যদেরও নির্ধারিত সময়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার স্বার্থে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ইতোমধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) মহাপরিচালক, চিফ একাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, যা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় জনবলকে অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে। এজন্য সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সংশ্লিষ্টদের অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করতে চায় যে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম সময়মতো এবং নির্ভুলভাবে সম্পন্ন হবে। বিশেষ করে, নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি, তথ্য সংশোধন ও স্থানান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করতে কমিশন সক্রিয় রয়েছে।


