সাবেক ধর্মমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান এবং তার স্ত্রী আফরোজা হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন। দুদকের প্রাথমিক তদন্তে সাবেক মন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ফরিদুল হক খান পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে ৩ কোটি ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন।
এছাড়া তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১১টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৫২ কোটি ৪৬ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৩ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ফরিদুল হক খানের স্ত্রী আফরোজা হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তার স্বামীর অবৈধভাবে অর্জিত ১ কোটি ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৩৮ টাকার সম্পদ নিজের দখলে রাখার।
দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, “ফরিদুল হক খান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।”দুদক জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নথিপত্র ও ব্যাংক লেনদেন পর্যবেক্ষণ করে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ফরিদুল হক খান ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অসাধু উপায়ে সম্পদ অর্জন করেছেন। এ সম্পদ লুকাতে তার স্ত্রী আফরোজা হক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে দুদক। প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, সাবেক মন্ত্রী ফরিদুল হক খান জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি ধর্মমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে এ ধরনের মামলার সংখ্যা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্টরা।


