প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সমাপ্তি দিনে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরালো হয়েছে। বেইজিংয়ে চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির নানা উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সফর শেষ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় সকালে বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাতের আগে প্রধানমন্ত্রী তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত চীনের জাতীয় বীরদের স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং নীরবতা পালন করে বিপ্লবী বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
চার দিনের সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অবকাঠামো, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ সম্মেলনে অংশ নিয়ে চীনা উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে শিল্প ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
সফরকালে চীনের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে উৎপাদন খাত, যোগাযোগ অবকাঠামো, জ্বালানি এবং শিল্পায়নে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়।
চীন সফরের আগে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফর করেন এবং পরে দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সামার দাভোস-২০২৬ সম্মেলনে অংশ নেন। ধারাবাহিক এ সফরের মাধ্যমে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও গতিশীল হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সফর শেষে শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।


