মুক্তিযুদ্ধকে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে মুক্তিযোদ্ধা প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, এটি কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়, বরং সমগ্র বাঙালি জাতির গৌরব ও পরিচয়ের মূল ভিত্তি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
বুধবার (৬ মে) মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা এক ঐতিহাসিক সংগ্রাম। গ্রাম থেকে শহর—সব জায়গার সাধারণ মানুষ স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে লড়াই করেছেন। তাই এই যুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করা বা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়।
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা জাতির জন্য ক্ষতিকর। প্রকৃত অবদানকারীদের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করতে সঠিক যাচাই-বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির প্রসঙ্গ টেনে ইশরাক হোসেন বলেন, যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল, তারা ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে আছে। ভবিষ্যতেও কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা অপপ্রচার বরদাস্ত করা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ চলমান রয়েছে। ভাতা, চিকিৎসা সহায়তা এবং আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই করে প্রকৃতদের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত করতে শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। এজন্য স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সভা শেষে স্থানীয় সমস্যাগুলো শোনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।


