দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মুরগি, ভোজ্যতেল, চিনি, এলপিজি গ্যাস ও সবজিসহ অধিকাংশ পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে এসেছে। ফলে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য কিনছেন কিংবা অপেক্ষাকৃত কম দামের বিকল্প বেছে নিচ্ছেন।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ সংকট এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জ্বালানি সংকটের প্রভাবে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা সরাসরি বাজারদরে প্রভাব ফেলছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, মুরগির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সোনালি মুরগি এখন ৪৩০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগেও অনেক কম ছিল। ব্রয়লার মুরগির দামও ২০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এর প্রভাব পড়েছে গরুর মাংসের বাজারেও, যেখানে দাম ৮০০ টাকার নিচে নামছে না।
ভোজ্যতেলের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। খোলা সয়াবিন ও পাম অয়েল আগের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, আর বোতলজাত তেলেও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে চিনির দামও বেড়ে গেছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে এলপিজি গ্যাসে। ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বেড়ে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে, যদিও বাজারে তা আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের রান্নার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। অধিকাংশ সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, আবহাওয়ার প্রভাব এবং মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার তদারকি জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধিতে স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ছে।


