মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব ধীরে ধীরে বাংলাদেশের কৃষি খাতে অনুভূত হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে জ্বালানি ও সারের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি হওয়ায় এই খাতটি এখন কিছুটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের মোট সারের চাহিদার একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যার উল্লেখযোগ্য অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। চলমান উত্তেজনার কারণে সেই সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, দেশের অভ্যন্তরীণ সার উৎপাদনও অনেকাংশে নির্ভরশীল আমদানিকৃত গ্যাসের ওপর, যা বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
সরকারি সূত্র বলছে, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুদ রয়েছে, যা দিয়ে সাময়িক পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। তবে দীর্ঘমেয়াদে সংকট এড়াতে বিকল্প উৎস খোঁজার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে চীন, মিশর ও রাশিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। এদিকে মাঠপর্যায়ে ভিন্ন চিত্রও দেখা যাচ্ছে। কিছু এলাকায় সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত সংকটের আগে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়াই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
বর্তমানে বোরো মৌসুম প্রায় শেষের দিকে থাকায় সারের চাহিদা তুলনামূলক কম। তবে সামনে আমন মৌসুম ও পরবর্তী বোরো চাষের জন্য যথাসময়ে সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে কৃষকরা সমস্যায় পড়তে পারেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারেও সারের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ও পরিবহন সংকটের কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি আরও তীব্র হতে পারে। এতে আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দীর্ঘস্থায়ী সংকট এড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা জোরালোভাবে অনুভূত হচ্ছে।


