গত এক বছরে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৬ হাজার ১০৭ জন। তবে ঠিক এক বছরের ব্যবধানে, ২০২৬ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৬৪ জনে। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরে প্রায় ১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৫৭ জন নতুন রোহিঙ্গা শরণার্থী যুক্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বৃদ্ধি কেবল নতুন অনুপ্রবেশের কারণেই নয়, শরণার্থী শিবিরে জন্মহার বৃদ্ধিও এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। ফলে কক্সবাজারের বিদ্যমান শিবিরগুলোতে চাপ আরও বাড়ছে এবং মানবিক সহায়তা ব্যবস্থাপনাও জটিল হয়ে উঠছে।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০ সাল থেকে বাংলাদেশে নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৯ হাজার ৫০২ জন। কিন্তু ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা শুরু হলে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। ওই সময় প্রাণ বাঁচাতে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়, যা বিশ্বের অন্যতম বড় শরণার্থী সংকটে পরিণত হয়।
বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন শিবিরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বসবাস করছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কারণে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় সহযোগিতা জরুরি।


