জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতাদের জামিন এবং দলটির কার্যালয় পুনরায় খোলার প্রসঙ্গে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলছে, এসব পদক্ষেপ দেশের চলমান বিচারপ্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে সহিংসতার অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ধারাবাহিকভাবে জামিন দেওয়া এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের কার্যালয় খুলে দেওয়ার ঘটনা জনমনে প্রশ্ন তৈরি করছে। তিনি দাবি করেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।
বিবৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় সেলিনা হায়াৎ আইভী ও আব্দুর রহমান বদি–এর জামিনের বিষয়টি। জামায়াতের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচিত এসব মামলায় আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং এর ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দলটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, জামিনে মুক্ত কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে, যা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে। পাশাপাশি ‘সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ উপেক্ষা করে ভিন্ন খাতে তদন্ত পরিচালনার অভিযোগও তোলা হয় বিবৃতিতে।
জামায়াত অবিলম্বে সব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, বিচারপ্রক্রিয়ার গতি বাড়ানো এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়। অন্যথায় ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে গণআন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। সার্বিকভাবে, দলটি মনে করছে—বিতর্কিত এসব সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিচারব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।


