বাংলাদেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে পোস্টার ছিল বহুদিনের পরিচিত অনুষঙ্গ। দেয়াল, বিদ্যুতের খুঁটি কিংবা দোকানের সামনে প্রার্থীদের পোস্টার নির্বাচন ঘিরে চেনা দৃশ্য। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এক সিদ্ধান্তে সেই দৃশ্য বদলে গেছে। এবারের নির্বাচনে সব ধরনের পোস্টার নিষিদ্ধ করেছে কমিশন।
ইসির এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেক ভোটার ও প্রার্থী। তাদের মতে, পোস্টার নিষিদ্ধ হওয়ায় শহরের সৌন্দর্য রক্ষা হবে, কমবে পরিবেশদূষণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যয়। তবে একই সঙ্গে নতুন এক উদ্বেগ সামনে এসেছে—অনলাইন অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্যের ঝুঁকি।
ঢাকা-২০ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী নাবিলা তাসনীম বলেন, পোস্টার ব্যবহারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ত। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা বাড়ায় নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়ানো সহজ হয়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন।
ঢাকা-১১ আসনের বিএনপি প্রার্থী ড. এম এ কাইয়ুম বলেন, পোস্টারের পরিবর্তে সরাসরি ভোটারদের কাছে লিফলেট ও ভোটার স্লিপ পৌঁছানোই কার্যকর। তবে অনলাইনে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অপপ্রচারকে তিনি ‘নোংরামি’ হিসেবে আখ্যা দেন।
এদিকে ঢাকা-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন পোস্টার নিষেধাজ্ঞাকে পরিচ্ছন্নতার পক্ষে একটি ভালো সিদ্ধান্ত বলে উল্লেখ করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক উপস্থাপনাকে তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অসুস্থ প্রবণতা হিসেবে দেখেন।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে এআই-নির্ভর অপপ্রচার। বিশেষ করে ভুয়া ভিডিও শনাক্ত করা এখনো পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়। এ কারণে নির্বাচন কমিশনের অধীনে একটি সার্বক্ষণিক ডিজিটাল মনিটরিং সেল গঠনের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারণা জোরদার করছে রাজনৈতিক দলগুলো। পোস্টারমুক্ত এই নির্বাচনে বাস্তব মাঠের পাশাপাশি ভার্চুয়াল জগতও হয়ে উঠছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।


