সাভারে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার সিরিয়াল কিলারের আসল নাম ‘মশিউর রহমান খান সম্রাট’ নয় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, আসল নাম সবুজ শেখ, পিতার নাম পান্না শেখ। মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া ইউনিয়নের মোসামান্দা গ্রামে জন্ম নেওয়া সবুজ শেখ পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান। তার বড় বোনের নাম শারমিন। পরিবারটির মধ্যে আরও তিন ভাই ও চার বোন রয়েছেন।
ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমকে জানান, সবুজ আদালতে যে তথ্য দিয়েছে, তার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশের অনুসন্ধানে জানা গেছে, সবুজ নারী ভুক্তভোগীদের ধোঁকা দিয়ে নির্জন ভবনে নিয়ে যেতেন। এরপর তাদের হত্যা করত যদি তারা অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করত বা তার মন মতো আচরণ করত।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ঘটনার মাত্র ৩-৪ দিন আগে সবুজ সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে নিয়ে আসে। ওই তরুণীর সঙ্গে অন্য একজন যুবক অনৈতিক সম্পর্ক করলে প্রথমে সেই যুবককে দোতলায় হত্যা করে। এরপর তরুণীকে নিচতলায় হত্যা করে মরদেহ টয়লেটে রাখার পর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
সবুজকে রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে সাভার থানার সামনে থেকে আটক করা হয়। পরে পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে একটি কিশোরীসহ দুজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সবুজের প্রথম হত্যা ঘটনা ঘটে ২০২৫ সালের ৪ জুলাই। সাভার মডেল মসজিদের সামনে তিনি আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। ২৯ আগস্ট এবং ১১ অক্টোবর আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন তিনি। গত ১৯ ডিসেম্বর এবং সর্বশেষ ১৭ জানুয়ারি আরও এক কিশোরীসহ দুইজনকে হত্যা ও দাহের ঘটনায় তিনি জড়িত। পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “সবুজ শেখের দেওয়া স্বীকারোক্তি যাচাই করা হচ্ছে। তার ধর্ষণ, হত্যা ও দাহের ঘটনা পুরোপুরি তদন্তের আওতায় রয়েছে।”
এ ঘটনায় সাভার এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ভবঘুরে নারী ও যুবকদের প্রতি সবুজের হিংস্রতা ছিল ভয়ংকর মাত্রার। এখন পুলিশ হত্যাকাণ্ডগুলোর সম্পূর্ণ তথ্য সংগ্রহ ও প্রমাণ সংগ্রহে তৎপর রয়েছে।


